ফসলের চাহিদা জানাতে যোগাযোগ : ০১৮০৪৩৮৯২৯২ | ০১৭৬২৫১১৮০১(হোয়াটস অ্যাপ)

বাংলার কৃষিতে খ্রিষ্ঠীয় সন চর্চার ক্ষতি

বাংলার প্রকৃতি ও কৃষির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই বাংলা সন প্রবর্তণ, অথবা ঋতু বৈচিত্র্যের সাথে সামজ্ঞস্য রেখেই বাংলা সাল প্রস্তুত করা হয়েছিল। সেটির সাথে এখানে ফসলের চাষাবাদ ব্যবস্থা চালু আছে শত শত বছর ধরে। কিন্তু কৃষিতে ইংরেজি সালের ফর্দ মোতাবেগ চাষাবাদ বা নির্দেশণা দিতে গিয়ে ফসল চাষাবাদ ও সময়ের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়েছে। বিশেষত একাডেমিক কৃষি পাঠে বিষয়টি আরও প্রকট, ফলে বাংলাদেশ কৃষক ও কৃষি একাডেমিকদের যোগাযোগে ব্যাপক ফারাক তৈরি হয়। যেটি বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের জন্য ক্ষতিকর। আমি অনেক কৃষি গবেষক, শিক্ষক , শিক্ষার্থী ও সম্প্রসারণ কর্মীর সাথে কথা বলেছি, তারা ফসল বপন, পরিচর্যা, সময় কাল, উত্তলনকাল ইংরেজি মাস ছাড়া বলতে পারেন না। কিন্তু কৃষক বাংলা মাস তারিখ ও ঋতু হিসেবে ফসল চাষাবাদ করে থাকেন। একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি যে, বাংলার প্রকৃতিতে ঋতু বাংলা মাসের হিসেবের মধ্যে পড়ে থাকে, ইংরেজি মাসের হিসেবে নয়। তাই বাংলা সাল হিসেবে চাষাবাদ জরুরি। কোনো কৃষি একাডেমিশিয়ান বন্ধু থাকলে বিষয়টি আমাকে আরো বুঝতে সহাযতা করবেন।
প্রথমত, বাংলার প্রকৃতি, জলবায়ু, আবহাওয়া, মেঘ বৃষ্টি, জোয়ার-ভাটা, ঝড়, তাপমাত্রা, সূর্য কিরণ, খরার সাথে মানানসই করে বাংলা সন হিসেবে কৃষকরা কাজ করে থাকেন। যেমন, বৈশাখ বলার সাথে সাথে এর সাথে বাংলার ফসল, জলবায়ু, তাপমাত্রা, প্রাণ বৈচিত্র্য, বীজ বপনসহ অনেক জ্ঞান জড়িত থাকে। কিন্তু ইংরেজি ( খ্রিষ্ঠীয় ) সাল গণণে আপনি বাংলার নিজস্ব জ্ঞানের সন্ধান পাবেন না, বাংলার জলবায়ু, ঝড়, বৃষ্টি, মেঘ, তামমাত্রা সেই হিসেবের সাথে মেলেও না। তাহলে বাহিরে থেকে এটি কৃষিতে প্রয়োগের ফজিলত কি ?
আমার হাতে যে তথ্য প্রমাণ রয়েছে তাতে অধিক মাত্রায় ইংরেজি সাল ধরে ফসলের চাষাবাদের পঞ্জিকা প্রচার করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য তথ্য সরবরাহকারী সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘কৃষি ডাইরি’র শেষ দিকে এমন একটি ইংরেজি (খ্রিষ্ঠীয়) সন ধরে ফসল বপন ও উত্তলনের চার্ট রয়েছে। সেখানে কোনো বাংলা মাসের নিদের্শনা নেই। এখানে বলা দরকার বাংলাদেশের কোনো গ্রামেই কৃষক ইংরেজি সন ধরে চাষাবাদ করে না।

ভাল লাগলে সোশ্যাল মিডিয়াতে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Pinterest

একই রকম আরও কিছু লেখা