ফসলের চাহিদা জানাতে যোগাযোগ : ০১৮০৪৩৮৯২৯২ | ০১৭৬২৫১১৮০১(হোয়াটস অ্যাপ)

প্রাণ বৈচিত্র্য খামারের দিনগুলি -১

১৯/০৯/২০২৪ তারিখ মাগরিবের একটু আগে আমরা পৌঁছে গেলাম আমাদের কাঙ্খিত গন্তব্যে। দূর থেকে যখন প্রাণ বৈচিত্র্য খামার এর অবয়ব দেখতে পেলাম সবার মন পুলকিত হয়ে উঠেছিলো। বান্দরবান বান্দরবান ফিল পাচ্ছিলাম🙂 এতটা জার্নির ধকল,খিদা সব এক নিমিষেই উধাও। একে একে সবার হিরো মার্কা এন্ট্রির ভিডিও নেওয়া শেষে, ফাইনালি রুমে যাওয়ার সুযোগ পেলাম। ফ্রেশ হয়ে সবাই বিছানায় গা এলিয়ে কেলিয়ে পড়ে ছিলাম🥲

আমাদের বিছানা ছিলো চাটাই এর মেঝেতে তোষক বিছানো। ওয়াও ওয়াও ফিলিংস। তারপর হঠাৎ করে জানতে পারলাম এখানে কোনো কারেন্ট নাই। ফোন চার্জ করাতে হলে সাইংজুরী বাজারে যেতে হবে। ওয়াইফাই নাই।সোলারে লাইট ফ্যান চলে,পাকামো করে বেশি চালালে পরে নিজেদেরই ফল ভোগ করা লাগবে। টেনশন! টেনশন!টেনশন! টেনশন কমানো লাগবে।

চমৎকার,চোখ জুড়ানো একটি উঠোন। ভিতর বাড়ি।

কারেন্টের চিন্তায় মাথায় চায়ের নেশা উঁকিঝুকি দিতে লাগলো। সবাই মিলে বের হলাম। টঙ এ গেলাম। মানুষের ভালো কাজে খোঁচা মারা যে বাঙালির মজ্জাগত স্বভাব তার প্রমাণ পেলাম। চা ওয়ালা চাচা, টিটকারির সুরে বললেন দেলোয়ার তো আবার কারেন্ট নিবে না। মাটির সাথে তাঁর সম্পর্ক। বলে একটা ফিচ হাসি দিলেন।

খোঁচা মারা চাচার চায়ের কেটলি

আমরা কথাটা গ্রাহ্য না করে চা পান শেষে একটু এলাকা ভ্রমণে বের হলাম। বিখ্যাত কাউটিয়া বটতলার পাশ দিয়ে এদিক সেদিক একটু হাঁটাহাঁটি করলাম। বটগাছে কে কিভাবে ঝুললে অ্যাস্থেটিক লাগবে সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হলো।গরুর পাল নিয়ে আপা পড়েছিলেন মুসিবতে🥲

কাউটিয়া বটতলা

যায় হোক, ঘোরাঘুরি শেষে আবার আমাদের খামারে ফিরে আসলাম। এসে সবাই ছুঁতছুঁত করতে লেগেছি, কখন খেতে দিবে । খিদায় পেটের ভিতর কেমন জানি করে🤧🤧🤧 অবশেষে ডাক আসলো। সবাই পড়িমরি করে দৌড় দিলাম। আপা হেসে ফেলেছিলেন🙂 যেয়ে দেখি মাটির সরা রাখা। একটা করে নিয়ে ধুয়ে এনে, নিজে নিজে খাবার তুলে নিতে হবে। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে খাবার নিতে হলো। দার্জিলিং এর বোডিং স্কুলের মতন লাগছিলো। খাবার দেখে তো আমরা অবাক, এক্সাইটেড। ঢেঁকিছাটা লাল চালের ভাত, মূলার মতন কি একটা ভাজি, লাউ, ডিমের সালুন, পুঁইশাক দিয়ে আলুর ঝোল। ওরে মজা।সুবহানাল্লাহ। একটু খেয়ে পেট ভরে যাচ্ছে। খিদা লাগে না বহুক্ষণ। সবাই মিলে গরুর মতন খেলাম😐😐খাওয়া শেষে, মালশা ধুয়ে সে পানি গাছের গোড়ায় দিয়ে জায়গামত সরা রেখে আমাদের ছুটি।

পুঁইশাকের সালুন পরে দিয়েছিলো। বেচারা ছবিতে আসতে পারেনি💔

আমরা ভেবেছিলাম, এত ক্লান্ত শোয়ার সাথে সাথে মনে হয় চিৎপটাং হয়ে যাবো। ওমা কিসের কি! চোখে ঘুমের ঘ ও নাই।🤧 রুমে আপার সাথে গল্প জুড়ালাম। আপা বলেন, ঘুমাও সকালে উঠতে পারবা না। আবার গল্প, গয়না, পড়াশোনা, বিয়ে, জামা কাপড় সহ রাজ্যের এমন কিছু ছিলো না যা আমাদের গল্প থেকে বাদ পড়েছিলো। এছাড়াও আগামীকাল সকালে আমরা কি কি শিখবো, কি হবে না হবে এসব নিয়ে বহুত জল্পনা কল্পনা শেষে বকবক করতে করতে কিভাবে জানি ঘুমিয়ে গেয়েছিলাম ।

ভাল লাগলে সোশ্যাল মিডিয়াতে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Facebook
Twitter
Pinterest

একই রকম আরও কিছু লেখা